RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, March 26, 2017

KASTURI DAS, MLA, MAHESTALA - রাখে মমতা ব্যানার্জি, মারে কে? মন্ত্রী সান্ত্রীদের নিয়ে আলোচনা হবেই। কিন্তু গত পাঁচ বছরে যাঁদের নাম শোনা যায়নি, তাঁদেরও ‘অগ্রগতি’ কম নয়। যেমন কস্তুরী দাস। মহেশতলার এই তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মেয়র শোভন চ্যাটার্জির শাশুড়ি। তাঁর স্বামী দুলাল দাস মহেশতলা পৌরসভার চেয়ারম্যান। এই দম্পতির মোট অস্থাবর সম্পত্তি ২০১১-তে ছিল ৩৮লক্ষ ৫৫হাজার ৫০৪টাকা ৪৬পয়সা। সেই পরিমাণ ২০১৬-তে পৌঁছেছে ১কোটি ২২লক্ষ ৬০হাজার ৫৫৬টাকায়। তার মধ্যে প্রার্থী কস্তুরী দাসের অস্থাবর সম্পত্তি ১৬লক্ষ ৯৮হাজার ৩১৫টাকা থেকে পৌঁছেছে ৪৭লক্ষ ৯হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ২০১৪-তে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার জমি কিনেছেন জলপাইগুড়ির মালে। ওই একই সময়ে দু’জনেই দু’টি ফ্ল্যাট কিনেছেন ১কোটি টাকার। রাখে মমতা ব্যানার্জি, মারে কে?

DULAL MURMU, MLA - সম্পদ বাড়ানোর ‘জাদু’ আছে মমতার দলে। জঙ্গলমহল বাকি থাকে কেন? দেখা যাক দুলাল মুর্মু কী বলছেন? জঙ্গলমহল তথা পশ্চিমাঞ্চলে মমতা ব্যানার্জির প্রতিনিধি দুলাল মুর্মু। নয়াগ্রামে ২০১৬-তে তিনি আবার, দ্বিতীয়বার জিতেছেন। ২০১১-তে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে যে হলফনামা জমা দেন, তাতে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৬২হাজার ৭৯টাকার। পাঁচ বছরে হাসতে হাসতে তা পৌঁছে গেছে ২৬লক্ষ ৮৯হাজার ৭৪৭টাকায়। বৃদ্ধির হার ৪৩৩২শতাংশ! তাঁরই স্থাবর সম্পত্তি বলতে ২০১১-তে ছিল একটি জমি। পরিমাণ ছিল ৩০ডেসিবেল। দাম ছিল ২০হাজার টাকা। আর এখন, এই ২০১৬-তে মাননীয় বিধায়কের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ হয়েছে ১৮লক্ষ ৩০ হাজার টাকার। বৃদ্ধির হার ৯১৫০ শতাংশ! গত পাঁচ বছরে তিনি শেরপুর মৌজায় দুটি জমি কিনেছেন। একটির দাম ৬লক্ষ টাকা। আর একটির দাম ১২লক্ষ টাকা।

SOUMEN MAHAPATRA, MINISTER - সম্পদ বাড়ানোর ‘জাদু’ আছে মমতার দলে। রাজ্যের জলসম্পদ অনুসন্ধান মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলেন ২০১৬-তে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ২৪৯ টাকা ৫৫ পয়সা। ২০১১-তে তা ছিল ৬৯লক্ষ ৫৭ হাজার ৭৪০ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

FIRHAD HAKIM - তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অগ্রগতি’-র কোনও আলোচনা ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিমকে বাদ দিয়ে হতেই পারে না। তিনি ৫লক্ষের মতো ‘সামান্য’ টাকা ছুঁয়েই দেখেন না— নারদ ডট কমের স্টিং অপারেশনে ভিডিও-তে তেমনই অভিযোগ উঠেছে। হাকিমের ২০১১-তে নিজস্ব অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১কোটি ৪৭লক্ষ ৯৯হাজার ৬২৪টাকার। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তিও ছিল আধ কোটির বেশি। পাঁচ বছর পরে হাকিমের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ হয়েছে ২কোটি ৫১লক্ষ ৬০হাজার ১৮৩টাকার। পাঁচ বছরে হাকিমের নিজস্ব অস্থাবর সম্পত্তি ১কোটি ৪লক্ষের বেশি বেড়েছে। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তিও এই সময়কালে তিনগুণের বেশি বেড়েছে — পৌঁছেছে ১কোটি ৭১লক্ষেরও বেশি টাকায়।

SADHAN PANDE - আর একজন মন্ত্রী সাধন পান্ডে। ২০১১-তে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৬৮লক্ষ ৯৯হাজার ৫৭৩ টাকা ৩৮ পয়সার। ২০১৬-তে তা দাঁড়িয়েছে ১কোটি ৫৭লক্ষ ৯৬হাজার ৪৩টাকা ১৫পয়সায়। বেড়েছে ১কোটিরও বেশি। অর্থাৎ সারা জীবনে যা অস্থাবর সম্পত্তি ৬০ বছর পর্যন্ত ‘অর্জন’ করতে পেরেছিলেন পান্ডে, ৬৫-তে পৌঁছে তার তিনগুণের কাছাকাছি জোগাড় করেছেন। ভাবা যায়! তবে এখানেই শেষ নয়। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তিও ৬৩লক্ষ ৪১হাজার ৭৮৩টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ৮৬লক্ষ ৫৭হাজার ৪৫৬টাকায়।

PARTHA CHATTERJEE: রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। এই সময়কালে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির গতিপ্রকৃতিও কম ‘শিক্ষণীয়’ নয়। ২০১১-তে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ১৫লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৪৮টাকা। ২০১৬-তে তা দাঁড়িয়েছে ৫৭লক্ষ ৫৬হাজার ৫১২টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তিও পাঁচ বছরে ৮লক্ষ ৫৮হাজার ৩৭৩টাকা থেকে ৩৮লক্ষ ২হাজার ৮৭৪টাকায় পৌঁছেছে। তাঁর স্ত্রী ২০লক্ষ টাকা দিয়ে নেতাজীনগরে একটি দোকান কিনেছেন মাত্র এক বছর আগে।

MAYOR, BIDHANAGAR MUNICIPAL CORPORATION: কলকাতার মেয়র এমন হলে বিধাননগরের মেয়র কী দোষ করেছেন? তাঁর নাম সব্যসাচী দত্ত। বিধাননগরের মহানাগরিক এই মানুষটি বিধানসভাতেও সিন্ডিকেটরাজের পক্ষে সওয়াল করেছেন। সেই তিনি ২০১১-তেও বিধানসভার প্রার্থী হয়েছিলেন সেই রাজারহাট নিউটাউন থেকেই। ২০১১-তে তাঁর হাতে ছিল ৩হাজার টাকা। তাঁর হাতে এখন রয়েছে ১লক্ষ ৩৩ হাজার ২১৬ টাকা। ২০১১-তে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩৬লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০১৬-তে দাঁড়িয়েছে ১কোটি ১৬লক্ষ ৫৯৭ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি বৃদ্ধির হার দেখলে রীতিমত অবাক হতে হয়। ২০১১-তে যা ছিল ৬লক্ষ ৯১ হাজার ৭১ টাকা, তাই পাঁচ বছরের মধ্যে পৌঁছে গেছে ৮৯লক্ষ ৭৮হাজার ৪৭৩টাকায়।

কলকাতার মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। মুখ্যমন্ত্রীর আদরের ‘কানন’ তিনি। ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনের সময় শোভন চ্যাটার্জি এবং তাঁর স্ত্রীর মিলিত অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৬২লক্ষ ৩৭হাজার ৭৯৫টাকা ১৪পয়সার। আর ২০১৬-র এপ্রিলে তা দাঁড়িয়েছিল ১কোটি ৮৩লক্ষ ৩১হাজার ৪৭২টাকায়। পাঁচ বছরে তাঁদের অস্থাবর সম্পত্তি বৃদ্ধির হার— ২৯৩শতাংশের কিছু বেশি! গত পাঁচ বছরে মেয়রের পরিবারের অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে প্রতিমাসে ২লক্ষ টাকার বেশি করে বেড়েছে। এর মধ্যে মেয়রের নিজস্ব অস্থাবর সম্পত্তিও দারুণ গতিতে বেড়েছে। ২০১১-তে ছিল ২৭লক্ষ ৮১হাজার ৮৪টাকা ৩২পয়সা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ১কোটি ৪লক্ষ ৩০হাজার ৯৪২টাকায়।

আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর হলফনামায়। ২০১৬-১৭-তে দূর কথা, তিনি নাকি ২০১৫-১৬সালে আয়করই জমা দেননি! তিনিই স্বয়ং তা জানাচ্ছেন। ২০১৬-র এপ্রিলে দমদম উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে হলফনামা জমা দেওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, প্যান নম্বর— ‘এ ডি ভি পি বি ৮৬১৩এল’। সেবার তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি ২০১৪-১৫পর্যন্ত আয়কর জমা দিয়েছেন। এবার, ২০১৭-র মার্চে তাঁর হলফনামায় তিনিই জানাচ্ছেন, তাঁর ওই একই প্যান নম্বর। এবং এবারও তাঁর হলফনামা জানাচ্ছে, তিনি ২০১৪-১৫পর্যন্তই আয়কর দিয়েছেন তিনি। তারপর আর দেননি। অর্থাৎ গত এক বছরে রাষ্ট্র তাঁর আয়ের আর কোনও নতুন হিসেব পায়নি। যদিও তাঁর সম্পত্তি দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেছে। আয়কর দপ্তরের এক অফিসার জানিয়েছেন, ‘২০১৫-১৬-র আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা বা ডিউ ডেট সাধারণত ২০১৬-র ৩১শে জুলাই পর্যন্ত। তারপরও কোন ব্যক্তি আরো আটমাস, অর্থাৎ ২০১৭-র ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সেই আয়কর দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। তারপরও দেরি করলে তাঁকে পেনাল্টি বাবদ ফাইন দিতে হয়।’ অর্থাৎ অস্থাবর সম্পত্তি বৃদ্ধির গতি যতটা, ততটাই গড়িমসি আয়কর জমা দেওয়ায়। অথচ বামফ্রন্ট প্রার্থী উত্তম প্রধান কিন্তু তাঁর ২০১৬-১৭-র আয়কর রিটার্নও জমা দিয়েছেন। তার স্পষ্ট উল্লেখ আছে হলফনামায়। কাদের হাতে রয়েছে রাজ্যের ভার? কারা পাচ্ছে রাজা-রানির পার্ট?

কলকাতা হাইকোর্টের মামলা মূলত জয়ীদের ঘিরে। কিন্তু চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। তার আগে তিনি মন্ত্রী ছিলেন। গত প্রায় একবছর তিনি বিধায়কও নন। ২০১৬-র এপ্রিলে দমদম উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে তিনি নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা পেশ করেছিলেন, তাতে তাঁর ঘোষিত অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিলো ১২লক্ষ ৪৪হাজার ৪২৬টাকার। ২০১৭-র মার্চে তিনি আবার নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের আয়ের হিসাব পেশ করেছেন। কারণ তিনি এবার কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এখন তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ হয়েছে ২২লক্ষ ৮৩হাজার ৭০০টাকা। অর্থাৎ এগারো মাসে তাঁর সম্পত্তি ৮৩.৫শতাংশ বেড়েছে। যদিও ওই কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রেরই সি পি আই প্রার্থী উত্তম প্রধানের আয় বাড়েনি। যেমন রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষের আয়ের হাল।