RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Monday, November 24, 2014

BSNL EMPLOYEES TO STRIKE ON 27TH NOVEMBER

ARAMBAG - CPI (M) LEADER SERIOUSLY ASSAULTED BY GOONS OF MAMATA

আর এস এস নেতারা হিন্দুদের হাতে ‘বিশ্বের নেতৃত্ব’ তুলে নেবার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বয়ং মোহন ভাগবত এই মর্মে ভাষণ দিয়েছেন। সঙ্ঘের পরিচিত কায়দায় ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুত্ব’-কে একাকার করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে এই সম্মেলনে। হিন্দু ধর্মীয় পরিচিতির বহুত্ব, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, ধর্মচর্চার পার্থক্য কোনোকিছুই স্বীকৃতি না দিয়ে রাজনৈতিক হিন্দুত্বের সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির উৎকট প্রকাশ হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের ভাষণে। এখানেই পীযূষ গোয়েল, নির্মলা সীতারামনের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের মার্কসবাদীদের সম্পর্কে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আরেকটি অভিযোগ, তারা ভারতকে বহু ধর্ম, বহু ভাষা, বহু জাতি, বহু সংস্কৃতির সমাজ বলে মনে করে। তার ফলে ভারত যে আসলে একটি হিন্দু সমাজ, সেটিই গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম মৌলবাদের বিরোধিতা দিয়ে শুরু করলেও সমগ্র ইসলামকেই শত্রু বলে চিহ্নিত করেছে সম্মেলনের এই তাত্ত্বিক সওয়াল।

মার্কসবাদই প্রধান শত্রু, জানাচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা। হিন্দুত্ববাদীদের কাছে এই তত্ত্ব অবশ্য নতুন নয়। আর এস এস জন্মলগ্ন থেকে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দায়বদ্ধ। স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন ব্রিটিশ শাসকদের কাছে সঙ্ঘপ্রধান লিখিত ভাবেই জানিয়েছিলেন, কমিউনিস্টরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব থেকে ভারতকে মুক্ত রাখতে ব্রিটিশদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তাঁরা রাজি। মার্কসবাদীরা যে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার মোকাবিলা করে একথা সঙ্ঘেরও জানা। হিন্দুত্ববাদীদের আরেক শত্রু ‘বস্তুবাদ’ মার্কসবাদের অন্যতম দার্শনিক ভিত্তি, এও সঙ্ঘের জানা আছে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রযোজনায় এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মদতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু সম্মেলনে মার্কসবাদকে ‘নাটের গুরু’ বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে, মার্কসবাদ থেকে নানা রূপের শক্তির জন্ম হয়েছে। কমিউনিস্ট, সোস্যালিস্ট, উদারনৈতিক চিন্তা, মাওবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও নানা ধরনের বামপন্থীরা।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রযোজনায় এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মদতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু সম্মেলনে প্রচারিত ‘চিন্তা নিবন্ধ’ পাঁচ ‘এম’ (ইংরাজী বর্ণমালার)-কে হিন্দুদের শত্রু বলে চিহ্নিত করেছে। তার প্রথমটি ‘মার্কসবাদ’। অন্য চারটি হলো মেকলেবাদ, মিশনারি, মেটেরিয়ালিজম বা বস্তুবাদ, মুসলিম মৌলবাদ। মায়াসুরের পাঁচ আঙুলের মতোই এরা বিপজ্জনক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই পাঁচ শক্তি, যার মধ্যে মার্কসবাদই সবচেয়ে মারাত্মক, পৃথিবীতে ‘ধর্মের ষাঁড়কে’ ধ্বংস করতে চায়। হিন্দুধর্মই যেহেতু সমস্ত ধর্মের ভিত্তি, তাই হিন্দুত্বকে ধ্বংস করতে পারলেই তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ হবে।

মার্কসবাদই প্রধান শত্রু, জানাচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা নয়াদিল্লি, ২৪শে নভেম্বর- হিন্দুত্বের বৃহত্তম শত্রু হলো মার্কসবাদ। ‘দানবের হাতের বুড়ো আঙুল’ হলো এই মতবাদ। এমনই জানানো হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রযোজনায় এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মদতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিন্দু সম্মেলনে। রাজধানীতে চারদিন ধরে চলা এই সম্মেলন শেষ হয়েছে রবিবার। সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত, সঙ্ঘের অন্য নেতারা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি অশোক সিঙ্ঘাল, আন্তর্জাতিক সভাপতি প্রবীণ তোগাড়িয়া ছাড়াও কেন্দ্রের একগুচ্ছ মন্ত্রী, বি জে পি-ঘনিষ্ঠ অর্থনীতিবদ, বিদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদীর সরকার তৈরি হওয়ায় হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ সম্প্রসারণের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ এসেছে মনে করে এই সম্মেলনের আয়োজন হয়েছিল। সেখানেই মার্কসবাদ যে এই মতাদর্শের প্রধানতম শত্রু, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।