RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, March 26, 2015

ইডি সূত্রে জানা গেছে রোজভ্যালির অডিট রিপোর্টেও মিলেছে বিস্তর অসঙ্গতি। তহবিল তছরূপের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। একটি খাতের টাকা অন্য খাতে সরানো হয়েছে, একাধিকবার সেই টাকা ঘোরার পরে হঠাৎ করেই ‘উবে’ গেছে। কোথায় গেছে সেই টাকা? সদুত্তর নেই গৌতম কুণ্ডুর কাছে। পাশাপাশি অডিট রিপোর্টে এমন কিছু সংস্থায় রোজভ্যালির বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে যার অস্তিত্বই নেই। যে ঘটনায় স্পষ্ট সারদার মত এক্ষেত্রেও গরিব, সাধারণ আমানতকারীদের টাকা অন্যত্র পাচার হয়েছে। রাজ্য এমনকি দেশের বাইরেও হাওলার মাধ্যমে টাকা সরানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাতে প্রভাবশালী মহলের যোগের বিষয়টিও ইডি-র পাশাপাশি সি বি আই খতিয়ে দেখছে।

ইডি-র একটি সূত্রে জানা গেছে, সেবি ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বাজার থেকে তুলেছে রোজভ্যালি। ২০১৪ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত রোজভ্যালির দায়ের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এই তথ্যেই স্পষ্ট, বাজার থেকে উবে যাওয়া টাকার পরিমাণ আরও বেশি। এখন ইডি-র আধিকারিকরা তদন্তে মূলত দুটি বিষয়ে জোর দেন। প্রথমত, এই সময়কালে কত টাকা বাজার থেকে তুলেছে রোজভ্যালি? দ্বিতীয়ত, বাজার থেকে তোলা এই টাকা কোথায় গেলো? সারদার মত রোজভ্যালির ক্ষেত্রেও মানিরুটের তদন্তেই অগ্রাধিকার দিয়েছে ইডি। সেই সূত্র ধরেই ইতোমধ্যে গৌতম কুণ্ডুসহ সংস্থার শীর্ষ আধিকারিক, অ্যাকাউন্ট অফিসারকে জেরা করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কিন্তু এই দুটি প্রশ্নেই কোন সদুত্তর দিতে পারেননি গৌতম কুণ্ডু।

ROSE VALLEY - পশ্চিমবঙ্গে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে সারদা এবং রোজভ্যালি— দুটি বড় চিট ফান্ড সংস্থার কর্তাই গ্রেপ্তার হলেন। তবে কেলেঙ্কারির পরিমাপে সারদাকেও টেক্কা দিয়ে দিতে পারে রোজভ্যালি, মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকদের একাংশ। ইডি প্রাথমিক তদন্তে যে নথিপত্র উদ্ধার করেছে তাতে স্পষ্ট বিপুল পরিমাণ টাকা কার্যত বেআইনিভাবে বাজার থেকে তুলেছে রোজভ্যালি। তা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বলেই মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওডিশা, আসামে বেআইনিভাবে টাকা তুলেছে রোজভ্যালি গ্রুপ। তদন্তের প্রাথমিক পর্বে ইডি রোজভ্যালির প্রায় দেড় হাজার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পায়। পরে তা আরও বাড়ে। ইতোমধ্যে রোজভ্যালির ২৬৩১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ইডি। তা নিয়েও মামলাও চলছে হাইকোর্টে। সংস্থার দাবি এই অ্যাকাউন্টগুলি স্যালারি অ্যাকাউন্ট, ফলে কর্মীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও তার মধ্যেই একধাপ এগিয়ে ২৬৩১টি অ্যাকাউন্টের ২৯৫কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইডি। তা নিয়ে হাইকোর্টে পালটা মামলাও দায়ের করেছে রোজভ্যালি।

ROSE VALLEY: 25-03-2015: মঙ্গলবারও ইডি-র দপ্তরে দীর্ঘ জেরার মুখে পড়েছিলেন রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডু। পরে বেরিয়ে জানান তাঁকে ২৭শে মার্চ ফের তলব করেছে ইডি। কিন্তু এদিন দুপুরেই ইডি-র তরফে তাঁকে ফের সি জি ও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করা হয়। দুপুর তিনটে নাগাদ তিনি আসেন সি জি ও কমপ্লেক্সে। চার ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় জেরার পরে ইডি-র আধিকারিকরা গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত তাঁকে জানান। দিল্লি থেকেও ইডি-র আধিকারিকদের একটি দল এদিন আসে। তাঁরাও প্রায় ঘণ্টা দুয়েক জেরা করেন গৌতম কুণ্ডুকে। বিস্তর অসঙ্গতি, তথ্য চেপে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হলো না গৌতম কুণ্ডুর।

প্রায় এক বছর ধরে দফায় দফায় রোজভ্যালির একাধিক অফিসে তল্লাশি, রোজভ্যালির ২৬৩১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পরে গ্রেপ্তার করা হলো কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে। রোজভ্যালি তদন্তে এটাই প্রথম গ্রেপ্তার।

ROSE VALLEY: ২০০৯ সাল থেকেই এই রোজভ্যালির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাজার থেকে টাকা তোলার অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার স্বতঃপ্রণোদিতভাবেই তদন্ত করে এই সংস্থা সম্পর্কে সেবি-র কাছে অভিযোগও জানায়। সেবি প্রাথমিক তদন্ত করে ইডি-র কাছে রিপোর্ট পাঠায় যে ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে বাজার থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলছে রোজভ্যালি গ্রুপ। প্রতারণা করা হয়েছে আমানতকারীদের। সেবি-র আইনের ২৪ নম্বর ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।