RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, January 28, 2015

Gyan Sangam - A Road Map to Privatisation of Public Sector Banks

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/gyan-sangam-road-map-privatisation-public-sector-banks

Bribe for Bar: Pillai’s Tape Says Mani Received Rs 21 crores

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/bribe-bar-pillai%E2%80%99s-tape-says-mani-received-rs-21-crores

No More Polarisation: CPI(M)

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/no-more-polarisation-cpim

Andaman & Nicobar State Conference of CPI (M) Held

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/andaman-nicobar-state-conference-cpi-m-held

মার্কিন চাপের কাছে আত্মসমর্পন, তীব্র বিরোধিতা পলিট ব্যুরোর


সংবাদ সংস্থা

নয়াদিল্লি, ২৭শে জানুয়ারি — ওবামার সফরে মোদী সরকার যেভাবে ভারতের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কার্যত মার্কিন পরিকল্পনার আজ্ঞাবহের ভূমিকা পালন করেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ জানালো সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো বলেছে, রাজনৈতিক-সামরিক পরিকল্পনা (স্ট্র্যাটেজিক) এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মার্কিন চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করলো মোদী সরকার। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ভারত সফরের ফলাফল দাঁড়ালো এটিই। 

পলিট ব্যুরো বলেছে, পরমাণু দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ওবামার সফরে যে ‘চুক্তি’ হলো, তাতেই এই আত্মসমর্পণের চেহারা তীক্ষ্ণভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক দুর্ঘটনা হলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণের ব্যাপারে ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই ২০১০সালে ভারতের সংসদে অসামরিক পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন পাস হয়েছিলো। ভোপাল গ্যাস কাণ্ডের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক চুল্লি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের দায়বদ্ধতার শর্তটি এই আইনে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু দায়বদ্ধতা আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির বেশ কয়েকটি ধারা বাদ দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে গেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন দাবি মেটাতে মোদী সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতা আইনটি পাস কাটানোর ব্যবস্থা করে ওদের স্বার্থরক্ষার পথই বেছে নিলো। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা কোম্পানিগুলি এবং ভারত সরকারের আর্থিক আনুকূল্যে মিলিতভাবে ১৫০০কোটি টাকার একটি বীমা তহবিল গঠন করে সরবরাহকারীদের দায় পুরোপুরি ভারত এবং ভারতীয় করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হলো। 

এছাড়াও কোন পরমাণু দুর্ঘটনা হলে ক্ষতিগ্রস্তরা তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরবরাহকারী বা অপারেটরদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারতেন আইনটির যে ৪৬নম্বর ধারায়, তা এড়াতে একটি ‘আইনি বিধি’ জারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মোদী সরকার। ৪৬নম্বর ধারার মূল উদ্দেশ্যটিকেই লঘু করার এই পদক্ষেপ আইনি দিক থেকেও দূরভিসন্ধিমূলক। পারমাণবিক চুক্তির বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০হাজার মেগাওয়াটের পরমাণু চুল্লি আমদানির যে অঙ্গীকার পূর্বতন ইউ পি এ সরকার করেছিলো, তা পূরণের জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

একইসঙ্গে ওবামার এই সফর এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ রাজনৈতিক-সামরিক পরিকল্পনা জোরদার করার মার্কিনী লক্ষ্যেও পরিচালিত হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট, এশিয়ায় মার্কিনী রাজনৈতিক-সামরিক কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে ভারত। মোদীর ‘পুবে চলো’ নীতি যে এখন চীন-বিরোধী মার্কিন কৌশলের সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে, তা যৌথ বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন মহাসাগর এবং মার্কিন-জাপান-ভারতের ত্রিপক্ষ জোটের উল্লেখেই বেশ স্পষ্ট হয়েছে।

ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি পরবর্তী দশ বছরের জন্য পুনর্নবীকরণের ঘোষণাতেও এই বোঝাপড়া স্পষ্ট হয়েছে। পুনর্নবীকৃত এই চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। এই চুক্তি যে সামরিকভাবে ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো কাছাকাছি আনতে বাধ্য করবে এবং তা যে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বশাসনের পক্ষে ক্ষতিকর হবে, এমন সঙ্গত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো, মার্কিন বিনিয়োগের বাড়তি মুনাফা সুনিশ্চিত করতে দেশের দরজা আরো হাট করে খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ভারত। পরমাণু শক্তির জন্য মার্কিনী উপাদান কিনতে ভারত এখন অঙ্গীকার করেছে। সামরিক সম্ভারের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নির্গমন সীমাবদ্ধ রাখতে ‘প্রযুক্তি’ কিনবে ভারত। ওবামার প্রতিশ্রুত ৪০০কোটি ডলারের বেশিরভাগটাই হলো মার্কিনী পণ্য কেনার ঋণ। ফলে ‘ভারতে বানাও’ নীতির বদলে মোদী সরকার এখন ‘আমেরিকায় তৈরি’ নীতিকেই উৎসাহিত করছে।

অথচ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের দেশ লাভবান হবে, এমন কোন বিষয়ে চাপ দিতে অথবা সাফল্য আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। ভারতের পেটেন্ট এবং মেধাসত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা নীতি অথবা ভারতীয় পেশাজীবী বা নাগরিকদের ভিসার ব্যাপারে কোন স্বীকৃতিই দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধঃস্তন সম্পর্কে নিজেদের আবদ্ধ করার ব্যবস্থা পাকা করলো মোদী সরকার।

এদিকে, ওবামার সফরে দেশের স্বার্থবিরোধী আচরণের দায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কৈফিয়ত দাবি করেছেন সি পি আই নেতা তথা রাজ্যসভার সদস্য ডি রাজা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি ভোপাল গ্যাস কান্ড এবং জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মারণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কেন ভারতের দায়বদ্ধতা আইন লঘু করা হলো, তার জবাব চেয়েছেন। পাশাপাশি, পরমাণু চুল্লির দুর্ঘটনার দায় বিদেশী সরবরাহকারীদের বদলে কেন ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং ভারতীয় জনগণ বহন করবেন, তারও কৈফিয়ত প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে চেয়েছেন তিনি।

ব্যয় ছাঁটাইয়ের সরকারকে হারিয়ে গ্রিসে জয়ী সাইরিজা


সংবাদ সংস্থা

এথেন্স, ২৭শে জানুয়ারি— ব্যয় সঙ্কোচের শ্বাসরোধী রাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতি নির্বাচনে উৎখাত করলেন গ্রিসের মানুষ। 


রবিবার দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফল স্পষ্ট হয়েছে সোমবার। ভোটে জয়লাভ করেছে বামপন্থা ঘেঁষা সাইরিজা। ৩০০আসনের সংসদে, ৩৬শতাংশের সামান্য বেশি ভোট পেয়ে ১৪৯টি আসনে জয়ী সাইরিজা। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে যা মাত্র ২টি আসন কম। পরবর্তী সরকার গঠনে সাইরিজাকে সমর্থন করেছে একটি ‘নির্দল’ গোষ্ঠী, তারা ব্যয়সঙ্কোচ বিরোধী কিন্তু বাকি অবস্থানে সাধারণভাবে দক্ষিণপন্থীই। দেদার কর্পোরেটতন্ত্রের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ জনাদেশ আন্দাজ করেই এবারে নির্দলদের সমর্থনে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সাইরিজার নেতা অ্যালেক্সি সিপারেস।



ভোটের লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে নয়া উদারনীতির প্রবক্তা দেশের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিস সামারাসের দল নিউ ডেমোক্র্যেসি। তাদের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ২৮শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডার (আই এম এফ), ইউরোপীয় কমিশন (ই ইউ) এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক (ই সি বি)-র শর্ত মেনে গ্রিসের সাধারণ মানুষের ওপরে ব্যয় ছাঁটাইয়ের স্টিমরোলার চালায় সামারাসের সরকার। যাকে নির্বাচনী প্রচারে ‘মানবিক সঙ্কট’ হিসেবেই উল্লেখ করে সাইরিজা। ‘আমাদের ওই জয় গোটা ইউরোপের। সরকারের ব্যয় সঙ্কোচের নীতির প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন এমন সবার’, এথেন্সে উল্লাসে মেতে ওঠা সমর্থকদের মাঝে সাংবাদিকদের বলেন সিপারেস (৪০)। ব্যয় ছাঁটাইয়ের নীতি চাপিয়ে যারা অভিন্ন ইউরোপ তৈরির সম্ভাবনাকে চুরমার করছে তাদের ধিক্কার জানান তিনি। 



নির্বাচনের পরিণাম ফুটে উঠতেই রবিবার রাতে সরকার গঠনে আলোচনায় বসে সাইরিজা এবং নির্দলরা। বৈঠকে অংশ নেন সাইরিজার নেতা সিপারেস এবং দক্ষিণপন্থী নির্দল নেতা পানোস কামেনোস। এই আলোচনা থেকেই গ্রিসের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত হয় সিপারেসের নাম। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, বিভিন্ন দিক থেকেই গ্রিসের ভোট ছিল ঐতিহাসিক। নির্বাচনে ১৭টি আসন পেয়ে তৃতীয় হয়েছে অতি দক্ষিণপন্থী নিও নাৎজি দল গোল্ডেন ডন। বর্তমানে অভিবাসী বিরোধী দলটির বেশ কয়েকজন জয়ী প্রার্থী জেলে। 



‘আগে ক্ষমতায় ছিল এমন আর কোন দলের ওপর আমাদের আস্থা নেই। তাই সাইরিজাকেই ভোট দিয়েছি’, ফলপ্রকাশের পর এথেন্সে সাংবাদিকদের জানান মারিয়া (৭৮)। সূত্রে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সিপরাসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে ই ইউ, আই এম এফ এবং ই সি বি-র সঙ্গে আশু ত্রাণ প্রকল্পের শর্তাবলী সংশোধন করা। কারণ একমাত্র সরকারী ব্যয় ছাঁটাইয়ের শর্তেই গ্রিসকে মন্দার কবল থেকে উদ্ধার করতে ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য দিতে রাজি হয়েছে আগ্রাসী ত্রয়ী। মনে করা হচ্ছে এথেন্সের সঙ্গে এর ফলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হতে পারে ব্রাসেলস এবং বার্লিনের। আগেই ব্রাসেলসে ই ইউ-র সদরদপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যায় সঙ্কোচনের নীতি প্রয়োগ করা হলেই গ্রিসকে ত্রাণ দেওয়া হবে। অন্যদিকে গ্রিসের ত্রাণ প্রকল্পের শর্ত কঠোরভাবে কার্যকর করার পক্ষে ময়দানে ওকালতি শুরু করে দিয়েছে ইউরোপের বৃহৎ আর্থিক শক্তি জার্মানিও। 



‘পাঁচ বছরের নির্দয় ব্যয় সঙ্কোচের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার পর রবিবার ভোটের লাইনে মনস্থির করেই দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিসের ৯০লক্ষ ৮০হাজার মানুষ। নিজেদের সম্ভ্রম উদ্ধারের এটাই ছিল তাদের কাছে শেষ সুযোগ’, রবিবার এথেন্সের কিপ্সেল জেলায় প্রাথমিক স্কুলে ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন সিপারেস। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সামারাসের সরকারের ব্যায় সঙ্কোচ নীতির জেরে সামাজিক ক্ষেত্রে প্রবল ছাঁটাই হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন ৩১লক্ষ মানুষ। অনেকেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। খোদ সরকারী পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বর্তমানে গ্রিসের ১৮শতাংশ মানুষ খাদ্যের জন্য ত্রাণ পাওয়া খাদ্যসামগ্রীর ওপরে নির্ভরশীল। দারিদ্র্যসীমার নিচে এক তৃতীয়াংশ মানুষ। 



ভোটে ভাল ফল করেছে গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টি (কে কে ই)। এবার দলের ৩জন বেশি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১৫টি আসন পেয়েছে তারা। ভোট বেড়েছে ১শতাংশ। রবিবার এথেন্সে কে কে ই-র কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। এতে পার্টিকে সমর্থন জানানোর জন্য মানুষকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী দিনে সাইরিজার নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারের যে কোন রকমের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধেও মানুষকে সঙ্গে নিয়েই কে কে ই দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছে। কে কে ই-র অবস্থান হলো সাইরিজা গ্রিসের অর্থনৈতিক সঙ্কট মেটাতে সক্ষম বলে তারা মনে করে না। সাইরিজার সরকারকে সমর্থন করছে না কে কে ই।