RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Saturday, April 19, 2014

আজ বিশিষ্টদের সভা বালুরঘাটে নিজস্ব প্রতিনিধি বালুরঘাট, ১৭ই এপ্রিল— শনিবার বালুরঘাটে নাট্যতীর্থে সভা করবেন বুদ্ধিজীবীরা। বর্তমান সময়ে দেশে ও পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক বিপদ মাথা তুলেছে সেই সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই সভা বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীর পরিচয় দিয়ে বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থীর রাজনৈতিক সত্যকে আড়ালের চেষ্টার সম্পর্কেও সতর্ক করা হবে মানুষকে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসম্পন্ন বালুরঘাটে অনেক নাট্যদল, লিটল ম্যাগাজিন, শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মীরা কাজ করেন। তেভাগা আন্দোলনের ঐতিহ্য সম্পন্ন বালুরঘাটের এই সাংস্কৃতিক ধারাতেও সেই কৃষক আন্দোলন ও গণআন্দোলনের প্রভাব প্রকট। কিন্তু সেই বালুরঘাটে এখন শাসকের প্রতাপে তৃণমূল কংগ্রেস সবাইকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে, অথবা ভয় দেখিয়ে দমন করে রাখার চেষ্টা করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে জেতানোর জন্য কলকাতা থেকে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা ইতোমধ্যেই বালুরঘাটে এসে প্রচার করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দপ্তরের কাজ শিকেয় তুলে এখানে এসে প্রচারে মন দিয়েছেন। তৃণমূল কর্মীদের সভায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এসে বলে গিয়েছেন, তৃণমূল কর্মীদেরই শিক্ষকতার চাকরিতে নিয়োগ করা হবে। এভাবেই বালুরঘাটে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন অর্পিতা ঘোষ। সাংস্কৃতিক ধারার এই অবক্ষয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শনিবার বামপন্থার প্রতি আস্থাশীল শিক্ষক বুদ্ধিজীবী, বালুরঘাটের বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী, চিত্রশিল্পী প্রমুখ একটি সভা অনুষ্ঠিত করছেন নাট্যতীর্থে। কলকাতা থেকে সৌমেন্দ্রনাথ বেরা, চন্দন সেন, ভারতী মুৎসুদ্দি, শুভেন্দু মাইতি, মন্দাক্রান্তা সেন প্রমুখ আসছেন সভায় যোগ দিতে। বালুরঘাটের কবি ব্রততী ঘোষ রায়, লেখক পুষ্পজিৎ রায় প্রমুখও থাকবেন সভায়।

Friday, April 18, 2014

বৃহস্পতিবার রাতে রাজারহাট পৌরসভা এলাকার পূর্ব নারায়ণতলার শ্রীগোপাল আবাসনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ই ডি’র আধিকারিকরা গ্রেপ্তার করেন পিয়ালি সেনকে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ঐ ফ্ল্যাটে তাঁকে নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মন্ত্রী? যদি তাই হয় তবে রাজ্যেরই বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তের মধ্যেই কীভাবে, কেন রাজ্যের এক মন্ত্রী তাঁকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তা-ও খতিয়ে দেখছেন ই ডি’র আধিকারিকরা।

কলকাতা, ১৭ই এপ্রিল— বুধবার রাতে সুদীপ্ত সেনের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী পিয়ালি সেন ও ছেলে শুভজিৎ সেনকে গ্রেপ্তার করে রাতেই সল্টলেকের সি জি ও কমপ্লেক্সে ডি’র দপ্তরে নিয়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ জেরা করা হয়। সূত্র মারফত জানা গেছে, জেরার প্রাথমিক পর্বেই পিয়ালি সেন স্বীকার করেছেন কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে সাহায্য করেছেন রাজ্যের এক দাপুটে মন্ত্রী যার বিরুদ্ধে এর আগে বারবার সারদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছিল।

কলকাতা, ১৭ই এপ্রিল— সারদা তদন্তে নতুন মোড়। সিট ও বিধাননগর কমিশনারেটের তদন্তের আওতা থেকে ‘রেহাই’ পেয়ে যাওয়া শাসকদলের শীর্ষস্তরের তিন প্রভাবশালী নেতাকে এবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ই ডি)। জানা গেছে, সারদার টাকা বিদেশে লগ্নির বিষয়ে শুক্রবারই এই তিনজনের মধ্যে একজনকে দিল্লিতে জেরা করবেন ই ডি-র গোয়েন্দারা। তিনি তৃণমূলের সাংসদ। পরবর্তীতে বাকি দুই শীর্ষ নেতাকেও জেরার প্রস্তুতি নিয়েছে ই ডি।

বহু বছর ধরেই বালুরঘাট থেকে আর এস পি প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। গতবার জয়ী হয়েছিলেন আর এস পি নেতা প্রশান্ত মজুমদার। এবার বামফ্রন্টের নতুন প্রার্থী বিমল সরকার ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। যুব আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলনেরও অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে, অর্পিতা ঘোষের মতো কোনো নেতিবাচক পরিচয়ের বোঝা তাঁর কাঁধে নেই। বামফ্রন্ট কর্মীরাও তাঁর প্রচারে রাজনৈতিক বিষয়ই তুলে ধরছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে জেলায় উন্নয়নের শ্লথতা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট লুটের ঘটনা, কৃষকের সমস্যা, সবই তুলে ধরে মানুষের কাছে জবাব চাইছে বামফ্রন্ট।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এই একটিই লোকসভা কেন্দ্র। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রও এই লোকসভার কেন্দ্রের অন্তর্গত। বরাবর বামফ্রন্টের হাতে থাকা বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ের ব্যপারে আশাবাদীই ছিলো। কারণ এই কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতেই তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন। কিন্তু হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ায়। কলকাতা থেকে কংগ্রেসের ওমপ্রকাশ মিশ্র এখানে এসে প্রার্থী হয়েছেন। আর বি জে পি প্রার্থী বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী তাঁর প্রচারে প্রচুর অর্থব্যয় করছেন। বি জে পি-র প্রচার এখানে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে গত লোকসভার মতো এবারও বালুরঘাটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বামফ্রন্ট প্রার্থী বিমল সরকার।

অর্পিতা ঘোষ - তাঁর নির্বাচনী প্রচারেই হিলি, গঙ্গারামপুর আর কুমারগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারিতে অনেকে আহতও হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে তাই বুধবার বালুরঘাটে বলতে হয়েছে, ‘সাংস্কৃতিক কর্মী আবার বাইরের লোক কি! রবীন্দ্রনাথ কি দার্জিলিঙে গিয়ে কবিতা লেখেননি? নেতাজী যদি বাইরের লোক না হয়, মাতঙ্গিনী হাজরা যদি বাইরের লোক না হয় তাহলে অর্পিতা কেন বাইরের লোক হবে?’

নিন্দুকের মতো বিরোধীরা যে সব প্রশ্ন তুলছে তাতে কর্ণপাত না করলেও দলের লোকেরাই যে আপত্তি তুলেছেন তা সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে অর্পিতা ঘোষকে। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই হরিরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব মিত্র এবং তাঁর অনুগামীরা খাপ্পা। জেলারই তৃণমূলের আরেক বিধায়ক মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর গোষ্ঠীর লোকেদের প্রবল বিবাদ। এই গোষ্ঠী বিবাদ আর ‘কলকাতা থেকে উড়ে আসা বাইরের প্রার্থী’ এই তকমা ঘোচাতে দম বেরিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল প্রার্থীর।

সারদার টাকার প্রশ্ন যে উঠছে, তা শুধু অর্পিতা ঘোষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও জানেন। তাই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জনসভায় উড়ে এসে বুধবার তিনি সার্টিফিকেট দিয়ে গেছেন, ‘অর্পিতা খুব ডেডিকেটেড ভালো মেয়ে। ও কালো টাকার কাছে মাথা নোয়াবে না।’

সারদা বিপর্যয় প্রকাশ্যে আসার পরেই বালুরঘাটে হাহাকার পড়ে গিয়েছিলো। তারপরেই টাওয়ার গ্রুপের অফিসে টাকা চেয়েও না পেয়ে ভাঙচুর চলে। সেই অফিস এখনো বন্ধ। চিটফান্ডের এক এজেন্ট আত্মঘাতীও হয়েছেন। সি পি আই (এম)-র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সম্পাদক মানবেশ চৌধুরীর প্রশ্ন, কুনাল ঘোষ সারদা থেকে মোটা মাইনে তুলে এখন জেলে আছেন। আর সারদা গোষ্ঠীরই টাকায় ‘এখন সময়’ নামের একটি টিভি চ্যানেলের কর্মী হিসাবে (শুভাপ্রসন্নকে মাথায় রেখে তৈরি এই চ্যানেলটি সম্প্রচার শুরু করতে পারেনি) অর্পিতা ঘোষ মোটা মাইনে তুলেও কেন চিটফান্ড প্রতারণার দায় নেবেন না?